এশিয়ার স্পট মার্কেটে গত সপ্তাহে স্থিতিশীল ছিল এলএনজির দাম

এশিয়ার স্পট মার্কেটে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম গত সপ্তাহে স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছে।

এশিয়ার স্পট মার্কেটে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম গত সপ্তাহে স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছে। এ সময় ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাসের দামে নিম্নমুখিতার কারণে বাজারে মন্দাভাব থাকলেও কিছু নতুন চাহিদা মূল্যহ্রাসকে সীমিত করেছে। আগের সপ্তাহে জ্বালানি পণ্যটির দাম ১০ সপ্তাহের সর্বনিম্নে নেমে গিয়েছিল। খবর বিজনেস রেকর্ডার।

শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রের দেয়া তথ্যানুযায়ী, উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় এপ্রিলে সরবরাহের জন্য গত সপ্তাহে এলএনজির গড় মূল্য ছিল প্রতি এমএমবিটিইউ ১৩ ডলার ৫০ সেন্ট।

কেপলার বিশ্লেষক গো কাটায়ামা বলেন, ‘‌এশিয়ায় এলএনজির মূল্য ইউরোপের ডাচ টাইটেল ট্রান্সফার ফ্যাসিলিটি (টিটিএফ) বেঞ্চমার্কের পতনের পূর্বাভাস ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে স্থিতিশীল সরবরাহের কারণে নিম্নমুখী রয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আগামী সপ্তাহে ইউরোপের টিটিএফের নিম্নমুখিতা ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে স্থিতিশীল সরবরাহের কারণে এলএনজি মূল্যে আরো পতন দেখা দিতে পারে। এছাড়া উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় উষ্ণ আবহাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। তাই চলতি মাসে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা কমতে পারে।’

তবে রিস্ট্যাড এনার্জির একটি নোটে উল্লেখ করা হয়েছে, কোরিয়া ও জাপানে সম্প্রতি এলএনজির চাহিদা কিছুটা বেড়েছে। কারণ শীতকালে তাদের মজুদ থেকে ব্যবহার বেশি ছিল। বর্তমানে মজুদ পূরণ করতে চাইছে দেশগুলো।

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল কমোডিটি ইনসাইটস গত বৃহস্পতিবার এপ্রিলের সরবরাহ চুক্তিতে নর্থওয়েস্ট ইউরোপ এলএনজি মার্কার (এনডব্লিউএম) বাজার আদর্শে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম স্থির করেছে ১১ ডলার ৪০ সেন্টে। এছাড়া একই মাসের সরবরাহ চুক্তিতে টিটিএফে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজিতে ৫৫ সেন্ট ছাড় দেয়া হয়েছে।

আরগাস মার্চের সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির মূল্য নির্ধারণ করেছে ১১ ডলার ৫৯ সেন্ট। অন্যদিকে স্পার্ক কমোডিটিজও প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজিতে একই দাম নির্ধারণ করেছে।

স্পার্ক কমোডিটিজের বিশ্লেষক কাসিম আফগান জানান, গত শুক্রবার আটলান্টিক মহাসাগরীয় পথে এলএনজির পরিবহন ব্যয় কমে দৈনিক ১৯ হাজার ৫০০ ডলারে নেমে এসেছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় পথে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দৈনিক ১৭ হাজার ৫০০ ডলারে।

কাসিম আফগান বলেন, ‘উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি সরবরাহ কমছে। কারণ এ অঞ্চলের তুলনায় উত্তর-পশ্চিম ইউরোপে সরবরাহ করা বেশি লাভজনক।’

এদিকে ব্রিটিশ বহুজাতিক জ্বালানি কোম্পানি শেল তার সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে জানায়, বিশ্বব্যাপী এলএনজির চাহিদা ২০৪০ সালের মধ্যে ৬০ শতাংশ বাড়তে পারে। চাহিদা বৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রাখবে এশিয়ার দেশগুলোর দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও শিল্প খাতকে কার্বনমুক্ত করার উদ্যোগ হিসেবে এলএনজির ব্যবহার বৃদ্ধি।

শেলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৪০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক এলএনজির চাহিদা পৌঁছতে পারে ৬৩ কোটি থেকে ৭১ কোটি ৮০ লাখ টনে। গত বছর জ্বালানি পণ্যটির মোট চাহিদা ছিল ৪০ কোটি ৭০ লাখ টন। এর আগে দেয়া পূর্বাভাসে কোম্পানিটি জানিয়েছিল, ২০৪০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী এলএনজির চাহিদা পৌঁছতে পারে ৬২ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৬৮ কোটি ৫০ লাখ টনে।

কোম্পানিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের পূর্বাভাসের তুলনায় এ হার ১০ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি। এছাড়া এটি ভারত ও চীনের ঊর্ধ্বমুখী চাহিদার প্রতিফলন।

আরও